খাদ্যে রেকর্ড ॥ চার কোটি টন উৎপাদনের মাইলফলক অর্জন

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 35 বার
খাদ্যে রেকর্ড ॥ চার কোটি টন উৎপাদনের মাইলফলক অর্জন

কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুদ নিয়ে বাংলাদেশ স্বস্তির অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ চালের মজুদ রয়েছে তা দিয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সহজেই চাহিদা পূরণ করা যাবে। আর গমের যে মজুদ রয়েছে তা দিয়ে চলবে আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত। জাতিসংঘ কৃষি ও খাদ্য সংস্থার (এফএও) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, প্রধান খাদ্যশস্য চাল ও গমের মজুদ গত তিন বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রয়েছে। বিশেষ করে গমের মজুদ গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থায় আছে। ফলে ডিসেম্বর পর্যন্ত খাদ্যশস্য নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। আর ডিসেম্বরের মধ্যেই দুটি ফসল আউশ ও আমন কৃষকের গোলায় উঠবে। বন্যায় কিছু পরিমাণ আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই লাখ হেক্টর বেশি জমিতে আউশ আবাদ হয়েছে। বর্তমানে মাঠে আউশ ধান কাটা চলছে। তবে বন্যার কারণে এ বছর আমন উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে চার দফা বন্যার কারণে নিচু এলাকার আমন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সরকারের মধ্যেও আমন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ অনিশ্চয়তা কাটাতে সরকার সীমিত পরিসরে চাল আমদানিতে যাবে বলে কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন।

তবে সম্প্রতি কৃষি খাতে সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, গত বছর দেশে রেকর্ড ৩ কোটি ৮৯ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে। এই চাল উৎপাদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে চাল উৎপাদনকারী শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদন হয়েছে গত বছর। মোট গম উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৪৭ হাজার টন। চাল আর গম মিলিয়ে এই প্রথম দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ৪ কোটির মাইলফলক পেরিয়ে গেছে। মোট খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়েছে ৪ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার টন। এর সঙ্গে ভুট্টা যুক্ত করলে দেশে মোট খাদ্যশস্যের উৎপাদন দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার টন। এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ এদেশের কৃষকদের, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অত্যন্ত পরিশ্রম করে এই খাদ্যশস্য উৎপাদন করেছেন। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এবং কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাককে। যারা কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে সারের দাম কমিয়েছেন। স্বল্পমূল্যে সার, বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। সর্বোতভাবে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের সহায়তা করেছেন।

বিশ^ খাদ্য দিবস সামনে রেখে প্রণীত জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার (ফাও) ‘সেকেন্ড র‌্যাপিড এ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’ থেকে আরও জানা যায়, ২০১৯ সালের ১ জুলাই দেশে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে মোট চালের মজুদ ছিল ১ কোটি ৩৪ লাখ ২১ হাজার টন। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন হয় ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টন। ওই বছর আমদানি হয়েছে ১৪ হাজার টন। এর মধ্যে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ, রফতানি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়েছে ৩ কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার টন। ফলে ২০২০ সালের ১ জুলাই চালের মজুদ দাঁড়ায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার টন। যা দিয়ে আরও ১৩৪ দিনের চালের চাহিদা পূরণ করা যাবে।

একইভাবে ২০১৯ সালের ১ জুলাই গমের প্রারম্ভিক মজুদ ছিল ১৭ লাখ ৩০ হাজার টন। দেশে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে গমের উৎপাদন হয়েছে ১২ লাখ ৪৭ হাজার টন। আমদানি হয়েছে ৫৮ লাখ ৩৯ হাজার টন। আর গত বছর মোট গম ব্যবহৃত হয়েছে ৬৭ লাখ ৪৬ হাজার টন। ফলে চলতি ২০২০ সালের ১ জুলাই দেশে গমের মজুদ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৭০ হাজার টন। ফাও’র তথ্য মতে, এই গম দিয়ে দেশের আরও ১৩৪ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।

ভুট্টা বাংলাদেশের একটি উদীয়মান ফসল। সরকারী উদ্যোগ ও প্রণোদনায় দেশে ভুট্টা উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ছে। ভুট্টার মজুদ সম্পর্কে ফাও’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১ জুলাই দেশে ভুট্টার মুজদ ছিল ২০ লাখ ৬২ হাজার টন। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মোট ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে ৩৪ লাখ ২৩ হাজার টন। এ সময়ে আমদানি হয়েছে ১৩ লাখ ৪৬ হাজার টন। দেশে ভুট্টা উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। গত বছর মোট ভুট্টা ব্যবহৃত হয়েছে ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টন। ফলে ২০২০ সালের ১ জুলাই দেশে ভুট্টার মজুদ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৮০ হাজার টন। যা দিয়ে আগামী ৩০০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

গত তিন বছরের খাদ্যশস্য মজুদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, করোনা মহামারী সত্ত্বেও চাল এবং গম এই দুটি প্রধান খাদ্যশস্যের মজুদই আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে অনেকে বেড়েছে। বিশেষ করে দেশে বর্তমানে গত তিন বছরের মধ্যে গমের সর্বোচ্চ মজুদ বিরাজ করছে। এই অবস্থা ভুট্টার ক্ষেত্রেও। গত তিন বছরের মধ্যে দেশে ভুট্টার মজুদও সর্বোচ্চ অবস্থায় আছে। ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে গত তিন বছর ধরেই ভুট্টার মুজদ বেড়েই চলেছে।

মজুদ খাদ্যশস্য দিয়ে কত দিন চলবে তা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৩০ দিন হিসাবে মাস ধরলে চালের বর্তমান মজুদ দিয়ে আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। আর গমের মজুদ দিয়ে চাহিদা পূরণ করা যাবে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ভুট্টা দিয়ে চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে বলা যায়, বর্তমান মজুদ দিয়ে সহজেই চলতি ক্যালেন্ডার বছর ২০২০ সালের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। কারণ ডিসেম্বরের মধ্যেই এরসঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আউশ এবং আমন ধান। প্রণোদনা দেয়ার কারণে এ বছর ২ লাখ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ বেশি হয়েছে। তবে বন্যায় কিছু পরিমাণ আউশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে আউশ ধান কাটা চলছে। আর ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন আমন ধান কৃষকের গোলায় উঠবে। তবে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন আবাদ। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও চার দফা বন্যার কারণে দেশের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে আমন আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উঁচু এলাকায় আমন আবাদ ভাল হয়েছে।

উল্লেখ্য, বোরো মৌসুমে এক দফা সময় বাড়িয়ে সরকার ২ লাখ ২০ হাজার টন ধান ও ৭ লাখ ৬৭ হাজার টন চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে। সরকারের এ বছরের লক্ষ্য ছিল ৮ লাখ টন ধান এবং ১১ লাখ ৫০ হাজার টন চাল ক্রয়। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য এ বছর ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ৮ লাখ টন করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারী খাদ্যশস্য মজুদ ২০১৮-১৯ সালের চেয়ে কমে গেলেও ভয়ের কিছু নেই। কারণ বর্তমানে বাজারে চাল ও গমের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। চালের দাম দফায় দাফায় বেড়েছে মূলত চাল ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে। চালের দাম বেশি থাকলেও বাজারে কোন ঘাটতি নেই। সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে চাল এবং গমের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ চাল উৎপাদন হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে বোরো চাল উৎপাদন ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে। মোট চাল উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টন। যা দিয়ে বছরের চাহিদা পূরণের পরও ৬৪ লাখ টন উদ্বৃত্ত রয়েছে। গমের উৎপাদনও গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল গত বছর। এ বছর সর্বোচ্চ ১২ লাখ ৪৭ হাজার টন গম উৎপাদন হয়েছে। আর আমদানি হয়েছে ৫১ লাখ টনের বেশি। এই মজুদ চাহিদা পূরণের চেয়েও বেশি। যা দিয়ে খুব সুস্থিরভাবে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত চাহিদা মেটানো যাবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারী মজুদ গত বছরের চেয়ে কমে এসেছে মূলত ধানের দাম বেশি থাকায়। এ কারণে সরকারের চাল ও ধান সংগ্রহ অভিযান সফল হয়নি। তবে সরকারী মজুদ দেশের চাহিদা জোগানে কোন প্রভাব ফেলে না। সরকারী ক্রয়ের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। এবার সরকারের সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। এ বছর কৃষক ধানের দাম ভাল পাচ্ছে। তবে এই সুবিধা পাচ্ছে মূলত বড় কৃষক, ফড়িয়া ও আড়তদাররা। যাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে ধান মজুদ আছে। কিন্তু প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের হাতে ধান না থাকায় এই বাড়তি দামের সুবিধা তারা পাচ্ছে না। ফলে দেশবাসীকে বেশি দামে চাল কিনে খেতে হচ্ছে।

গত ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের কাছে মোট ১৩ লাখ ১৪ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল। এর মধ্যে ১০ লাখ টন চাল ও ৩ লাখ ১৪ হাজার টন গম রয়েছে। আর ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকার ৪ লাখ ৮ হাজার টন চাল, ১ লাখ ১৭ হাজার টন গমসহ মোট ৫ লাখ ২৫ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণ করেছে।

বন্যায় আমন উৎপাদন কম হবে- কৃষিমন্ত্রী ॥ বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘এ বছর বন্যার কারণে আমনের উৎপাদন নিয়ে সরকার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে’। তিনি বলেছেন, ‘বন্যার কারণে আমনের উৎপাদন কম হবে। তাই বোরো ধান আসার আগ পর্যন্ত চালের একটা ঘাটতি হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন হলে চাল আমদানি করা হবে। তবে আমরা আরও ১৫/২০ দিন দেখব তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি হলেও হাহাকার হবে না। যদি আমনের বেশি ঘাটতি হয়ে যায়, তাহলে চাল আমদানি করতে হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এজন্য সীমিত পরিসরে চাল আমদানির জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। সেখানে হয় তো ৫ থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আনা লাগতে পারে।’

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ করে চাল ও আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয় থেকে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘গত বোরো মৌসুমে আমাদের বোরো খুব ভাল হয়েছে। কৃষকরাও ভাল দাম পেয়েছে। এরপর আউশের জন্য এ বছর ২ লাখ হেক্টর বেশি জমিতে আউশ চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম এবং সেটা অর্জনও করেছি। তবে আগাম বন্যার কারণে আউশের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির কারণ বা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি সেটা হলো আমন। কারণ দীর্ঘ সময়ের বন্যার জন্য নিচু এলাকাতে আমন চাষ করা যায়নি। শেষের দিকে কিছু আমন ধান লাগালেও হঠাৎ আশ্বিন মাসের বন্যায় তা নষ্ট হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, কাজেই আমনের উৎপাদন নিয়েও আমাদের মধ্যে একটা অনিশ্চয়তা আছে। তবে আশা করছি, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে উঁচু জমিগুলোতে আমন ভাল হবে। এই পরিস্থিতিতে যদি কিছু ঘাটতিও হয় আমি মনে করি না, বাংলাদেশে কোন হাহাকার পড়বে। যে পরিমাণ খাদ্য আছে তা দিয়ে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর মাধ্যমে কম ও বিনামূল্যে সাধারণ দরিদ্র মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় যে কাজ, ক্ষতির ফলে চাষীরা যেন বিপদগ্রস্ত হয়ে না পড়ে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য রবি ফসলের ব্যাপক কর্মসূচী নিয়েছি। আগামী বোরোতে কী হবে- এর জন্য আমরা এখন থেকেই কর্মসূচী নিয়েছি। এবার বিনামূল্যে আরও বেশি করে হাইব্রিড বীজ চাষীদের দেয়া হবে যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়।’

মন্ত্রী বলেন, এখন সাধারণ মানুষ সরুচাল খেতে চায়। তবে এ বছর করোনার কারণে অনেক মানুষ মোটা চাল খেয়েছে তাই হাইব্রিড চালের চাহিদা বেড়েছে। এই মোটা চালের দাম কম থাকায় মানুষ পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করত। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এবার হাইব্রিড দিয়ে উৎপাদন বাড়াব। যাতে আগামী বোরোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চালের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারি। একইসঙ্গে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের জন্য ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছি। এতে আমন ও বোরো মৌসুমে ধান কাটা সহজ হবে। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে আসবে। ফলে আমরা মনে করছি, আগামী বোরো মৌসুমে ব্যাপকহারে ধানকাটার মেশিন দিতে পারব। এতে কৃষি শ্রমিকের মজুরি কিছুটা সহনীয়সহ চাষীরা লাভবান হবে বলে জানান তিনি।

বোরো উঠা পর্যন্ত চালের ক্রাইসিস থাকবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আমনটা দেখি কেমন উৎপাদন হয়। তবে ব্যাপক ক্রাইসিস হবে না। প্রধানমন্ত্রী খাদ্য মন্ত্রণালয়কে চাল আমদানির একটা নীতিগত অনুমোদন দিয়ে রেখেছেন। যদি দেখা যায় যে, বেশ দাম বেড়েছে সেক্ষেত্রে অত্যন্ত সীমিত পরিমাণ তবে ওপেন না, ৫ বা ৬ লাখ টন সুনির্দিষ্ট পরিমাণ চাল আমদানি করা হতে পারে। তবে সেটা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

বিশ্ব খাদ্য দিবস ॥ আজ ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সারাবিশ্বে একযোগে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হবে। বিশ্ব খাদ্য দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বিকশিত হোন, শরীরের যতœ নিন, সুস্থ থাকুন। আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যত’। আজ খুদে বার্তায় একযোগে এই প্রতিপাদ্য বিষয় দেশবাসীকে জানানো হবে।

বৈশ্বিক করোনা সত্ত্বেও এ বছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যাপকভাবে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকায় এফএও কার্যালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়। দিবসটি উপলক্ষে এই প্রথম একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সার্কভুক্ত দেশের কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রীরা এই আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে যুক্ত হবেন। কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এতে সভাপতিত্ব করবেন। কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি, খাদ্যমন্ত্রী এবং মৎস্য ও পশু পালনমন্ত্রী বিশেষ অতিথি হিসেবে এই সেমিনারে থাকবেন।

দিবসটি উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় বিশেষ ক্রোড়পত্র বের করেছে। সরকারী ও বেসরকারী টেলিভিশনে টকশোর আয়োজন করা হয়েছে। প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্য নানা কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। এ লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এবার আমরা পালন করতে যাচ্ছি বিশ্ব খাদ্য দিবস। বিশ্ব খাদ্য দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সেমিনার, কারিগরি সেশন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমসহ কৃষি মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বিকশিত হোন, শরীরের যতœ নিন, সুস্থ থাকুন, আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যত’। এ বিষয়ে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক কো দোংইয়ু অনলাইনে বক্তব্য রাখবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।