নীল আকাশ শিউলি কাশবন রেখেই বিদায় নিচ্ছে শরত

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৪ অক্টোবর ২০২০, ২:২৮ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 30 বার
নীল আকাশ শিউলি কাশবন রেখেই বিদায় নিচ্ছে শরত

ভেসে যেতে চায় মন,/ফেলে যেতে চায় এই কিনারায় সব চাওয়া সব পাওয়া…। চাওয়া পাওয়ার হিসেব পেছনে ফেলে বিদায় নিচ্ছে শরত। এবার বর্ষায় যত বৃষ্টি হয়েছে, শরতে যেন তারচেয়ে বেশি। এখনও খুব একটা বদলায়নি পরিস্থিতি। অথচ শরতের চলে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে ভিজেই বিদায় নিচ্ছে শরত।

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ভাদ্র ও আশ্বিন এ দুই মাস শরতকাল। মনে হয় এই সেদিন শুরু হলো ভাদ্র। আর এখন আশ্বিনও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। আগামী শুক্রবার শরতের শেষ দিন। বিদায়ের সুর বাজছে প্রকৃতিতে।

প্রিয় এ ঋতু বাংলার সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয়। বছরের অন্যান্য সময় আকাশের দিকে চোখ তুলে না তাকালেও চলে। শরত শুরু হতে না হতেই অন্য ছবি। চোখ আপনি চলে গেছে আকাশের পানে। ‘নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই- লুকোচুরি খেলা…।’ প্রকৃতিপ্রেমীরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে এতদিন খেলাটি উপভোগ করেছেন। এত নীল, এত সাদা, এত মাখামাখি ভাল না লেগে উপায় কী!

একই সময় নদীর দুই ধারে দৃশ্যমান হয়েছে কাশফুল। এখনও মৃদু মন্দ হাওয়ায় দুলছে। একই দোলা অনুভূত হচ্ছে মনে। কবিগুরু তাই হয়ত লিখেছিলেন : আজি শরতপবনে প্রভাতস্বপনে কী জানি পরান কী যে চায়।/ওই শেফালির শাখে কী বলিয়া ডাকে বিহগ বিহগী কী যে গায় গো…। শরতের সকালটিও ¯িœগ্ধ। এখন শিউলি ফুলের ঘ্রাণে সকাল শুরু হচ্ছে। নজরুল থেকে বললে : শিউলিতলায় ভোরবেলায় কুসুম কুড়ায় পল্লী-বালা।/শেফালি ফুলকে ঝরে পড়ে মুখে খোঁপাতে চিবুকে আবেশ-উতলা…। অন্যত্র কবি লিখেছেন, এসো শারদপ্রাতের পথিক এসো শিউলি-বিছানো পথে…। শিউলি বিছানো পথ দেখা যাচ্ছে এখনও। আনন্দ যোগ করার পাশাপাশি হৃদয়ের গহীনে লুকিয়ে রাখা প্রাচীন বেদনাকে খুঁড়ে বের করে এনেছে শরত। সে কথা জানিয়ে নজরুল লিখেছেন, শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ঐ/এমন রাতে একলা জাগি সাথে জাগার সাথি কই…। একই রকম বিরহ কাতর হয়ে কবি লিখেছিলেন, দূর প্রবাসে প্রাণ কাঁদে আজ শরতের ভোর হাওয়ায়।/শিশির-ভেজা শিউলি ফুলের গন্ধে কেন কান্না পায়…।

প্রতি বছর নানা আয়োজনে শরতের বন্দনা করা হয়। রাজধানী শহরে আয়োজন করা হয় একাধিক উৎসব। এবার করোনাকাল হওয়ায় কোন আনুষ্ঠানিকতা সম্ভব হয়নি। তবে শরত চলে গেলেও, রেখে যাচ্ছে শারদীয় উৎসব। এবার আশি^ন মল বা অশুভ মাস হওয়ায় এ মাসে শুভ অনেক কাজই করা হয়নি। একই কারণে পিছিয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। আশ্বিনের পরিবর্তে কার্তিকে পূজোর আয়োজন করা হবে। আগামী ৬ কার্তিক ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতনী উৎসব। সপ্তমী অষ্টমী নবমী এ তিনদিন পুরোদমে চলবে। দশমীর দিন বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উদ্যাপন। তার আগে চলবে প্রতিমা দর্শন। এক ম-প থেকে আরেক ম-পে ঘুরে বেড়ানো। মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব। যোগ দেবেন অন্যরাও। বরাবরের মতোই অসাম্প্রদায়িক বাঙালী চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষের হয়ে উঠে শারদীয় উৎসব।

এদিকে, শরতে না পারলেও কার্তিকের প্রথমভাগে শরত উৎসবের আয়োজন করবে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। শারদীয় দুর্গোৎসব চলাকালীন সময় শিল্পকলা একাডেমিতে এ উৎসবের আয়োজন করা হবে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট বলেন, আমরা প্রতিবছর শরত উৎসবের আয়োজন করি। নাগরিক উৎসবে নাচ গান কবিতার ভাষায় প্রিয় ঋতুর বন্দনা করা হয়। কিন্তু এবার করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সেটি আর সম্ভব হচ্ছিল না। এ পর্যায়ে এসে অনেক কিছুই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তাই আমরাও শরত উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছি। দুর্গাপূজা পিছিয়েছে। পূজার আনন্দের মধ্যেই উৎসবটির আয়োজন করা হবে। আয়োজন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শরতে বিদায় জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

কবিগুরু লিখেছিলেন, আমার যায় বেলা, বয়ে যায় বেলা…। বেলা সত্যি খুব দ্রুত বয়ে যায়। একই কারণে ফুরোয় শরতের কাল। ফেরার শর্তে ফুরোচ্ছে এবারও।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।