বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 24 বার
বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

করোনাকালে যারপরনাই বিপর্যস্ত মানুষ। গোটা দুনিয়ার মতো বাংলাদেশও আক্রান্ত। এরই মাঝে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। প্রিয় ও পরিচিতজন হারিয়ে মন বিষণ্ণ ঢাকাবাসীর। তদুপরি মহামারীর আঘাতে বহু মানুষ কর্মহীন হয়েছেন। ব্যবসা নষ্ট হয়েছে। দেশে এসে আটকা পড়েছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। কাজে আর ফিরতে পারবেন কিনা, ভেবে অস্থির। কপালে চিন্তার বলিরেখা। তবে একই সময় ঢাকার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের দিকে তাকিয়ে দেখা যাচ্ছে বিপরীত ছবি। সংক্রমণের মধ্যেও এ মানুষগুলো মোটামুটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সাহস ধরে রেখেছিল তারা। প্রকৃতির কৃপাও হয়তো ছিল। এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূলত এ অংশটির কথা ভেবেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে অঘোষিত লকডাউন তুলে নিয়েছিলেন। সেই সুফল এখন পাচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। সবার আগে কাজে ফিরেছিলেন তারা। এতদিনে খেয়ে পরে বাঁচার উপায় হয়েছে। হাসি ফুটেছে মুখে। সেদিন গুলবাগের রেললাইন ধরে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তেমনই এক দম্পতি। দেখেই অনুমান করা গেল, খেটে খাওয়া মানুষ। কিন্তু তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে, কী বলব, মন ভাল হয়ে গেল! দুজনের মুখেই হাসি। এ হাসি বলে দিচ্ছিল ভাল আছেন তারা। তালের মৌসুম প্রায় শেষ হতে চলল। ঠিক তখন বাজার থেকে পাকা তাল কিনেছেন। বাড়ি গিয়ে পিঠা করে খাবেন। তিন বেলা খাবার জুটছে বলেই যে পিঠা খাওয়ার কথা ভাবতে পারছেন দরিদ্র মানুষ।

ধর্ষণের কয়েকটি ঘটনা একের পর এক ঘটল। সবই ঢাকার বাইরে। তবে ভুক্তভোগী নারীদের কান্না রাজধানী শহরে পৌঁছতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তখন থেকেই মানবিক মানুষেরা মর্মাহত। ক্ষুব্ধ। ধর্ষণ ও নারীর প্রতি নিষ্ঠুর নির্যাতনের জোর প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। শাহবাগ টিএসসিসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পালন করা হচ্ছে নানা কর্মসূচী। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এমন প্রতিবাদ, ফুসে ওঠা। দেখেই বোঝা যায়, বাধ্য হয়ে এমন মাঠে নেমেছেন তারা। দল মত নির্বিশেষ সবাই ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন। সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন তারা। তবে সাধারণ নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত চাওয়া নিয়ে রাজনীতি করার লোকও অনেক আছে। চিহ্নিত সেই গোষ্ঠী ইতোমধ্যে তাদের অপতৎপরা শুরু করে দিয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র প্রকাশ্যে এবং গোপনে সক্রিয়। এ অংশটি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত। ধর্ষকদের বিচার বা ধর্ষণমুক্ত সমাজ তাদের মূল চাওয়া নয়। সরকার ফেলে দেয়ার সেই পুরনো চক্রান্ত এরা নতুন করে বুনার চেষ্টা করছে। কোন কোন বাম ছাত্র সংগঠনও এমন অভিপ্রায় নিয়ে দলভারী করার চেষ্টা করছে। ধর্ষণসহ যে কোন অন্যায় সংঘটিত হলে সরকার দায় এড়াতে পারে না। সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সরকারপ্রধানের নাম ধরে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে দেখা যাচ্ছে। বাম সংগঠনের পক্ষ থেকে এটি করা হচ্ছে। প্রগতিশীল এবং প্রতিক্রিয়াশীলদের এই বোঝাপড়া যারপরনাই অদ্ভুত। অথচ ধর্ষণ বন্ধ না করতে পারার দায় যেমন সরকারের, তেমনি আছে আরও অনেক কারণ। পারিবারিক শিক্ষার অভাব, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ আরও নানা সঙ্কট তারা আমলে নিতে একদমই রাজি নন। এমনকি যে পশ্চাৎপদ ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠী নারীর পা কামড়ে পড়ে আছে তাদের তারা কোন দায় দিতে নারাজ। হেফাজত নামক সংগঠনটির সেই নেতার কথাই ধরা যাক। প্রয়াত আল্লামা নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করে বলেছিলেন, ‘মহিলা তেঁতুলের মতো, তেঁতুলের মতো, তেঁতুলের মতো। মার্কেটে যেখানে তেঁতুল বিক্রি করে ওদিকে যদি আপনে যান, আপনার মুখ থেকে লালা বাইর হয়। মহিলা তার থেকেও বেশি খারাপ! দিনেরাত্রে মহিলাদের সঙ্গে পড়ালেখা করতেছেন, আপনার দিল ঠিক রাখতে পারবেন না। রাস্তাঘাটে হাঁটাহুটা করতেছেন, হ্যান্ডশেক কইরা কইরা, আপনার দিল ঠিক রাখতে পারবেন না। যতই বুজুর্গ হোক না কেন, এই মহিলাকে দেখলে, মহিলার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করলে আপনার দিলের মধ্যে কুখেয়াল আইসা যাবে।’ ওয়াজের নামে এই ধরনের কথাবার্তা এখনও হচ্ছে। কিন্তু সেই অংশটিকে দায়মুক্তি দিয়ে কেবলই সরকারের বিরোধিতা ‘পলিটিক্স’ ছাড়া আর কী? এভাবে চললে ধর্ষণবিরোধী চমৎকার মুভমেন্টটি মাঠে মারা যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।