বিয়ে ও কিছু কথা পর্ব-৫

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১২ অক্টোবর ২০২০, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 1306 বার
বিয়ে ও কিছু কথা পর্ব-৫

ড.আব্দুস সাত্তার,ওয়াশিংটন ডি,সি  :- বিয়ের কথা আসলেই  এতো কথা কেন? তকদির  আল্লাহ্‌ লিখে রেখেছেন বুঝলাম, আবার শুনী যার সাথে যার বিয়ে লেখা আছে কপালে ,তার সাথে তার বিয়ে হবে।  আমরা কথায় কথায় বলি ,কপালে যা লেখা আছে সেটা কে খন্ডাবে? অনেক সময় অনেক অঘটন ঘটে, সম্ভব হয় অসম্ভব আবার অসম্ভব হয় সম্ভব।অখন সবাই বলাবলি করে একেই বলে কপাল। অনেকে বলে  বিয়ে ভাগ্যে লেখা থাকে?? আর যদি লেখাই থাকে, *তাহলে যদি কোনও মুসলিম মহিলা কোনও হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করে হিন্দু হয়ে যায়* বা *কোনও মুসলিম মহিলা কোনও খৃষ্টান ছেলেকে বিয়ে করে খৃষ্টান হয়ে যায়*, সেক্ষেত্রে আমরা জানি যে- ইসলাম ত্যাগ করলে মুরতাদ হয়ে যায় এবং কাফির হয়ে যায়। আর গুনাহও প্রচুর হবে। আর তার জন্য জান্নাত হারামও হয়ে যাবে।  তাই ভাবি বিয়ে কপালে নাকি ভাগ্যে লেখা থাকে। আবার  মনে প্রশ্ন আসে কি ভাষায় লেখা থাকে? বাংলা, ইংলিশ,হিন্দি ,উর্দু ও আরবি তো পড়তে লিখতে পারি কিন্তু কপালের লেখার ভাষা যে পড়তে পারিনা। জীবনটা তো চলবে এই লেখাকে অনুসরণ করে। কাজেই কপালের লেখার অনেকটাই পড়তে পেরেছি। বাকিটাও পড়বো ধীরে ধীরে।  

 
অনেকেই বলে কুরআনেই তো আছে ভাল ছেলেরা ভাল মেয়েই পাবে, ভাল মেয়েরা ভাল ছেলেকেই পাবে।এটাও সঠিক বুঝ নয়। সুরা নুরের ৩ নাম্বার আয়াতে সেখানে মূল ভাবটা হচ্ছে কোন ব্যাভিচারী ছেলে যেন ব্যাভিচারীনী নারী বা মুশরিকা নারী ছাড়া বিবাহ না করে, অনুরুপ মেয়েরাও। একজন ভাল একজন খারাপ এমন হলে সংসারে শান্তি আসা খুব মুশকিল আর তাই আল্লাহ তায়ালা অমন করে বর্ননা করেছেন। ভালর জন্য ভাল, খারাপের জন্যে খারাপ, এটা ফিক্সড করে দেননি বরং ভালর জন্যে ভাল কিছুই পারফেক্ট হবে এটাই বুঝিয়েছেন। নিজে ভাল হলেই যদি যে ভাল পাওয়া যাবে ব্যাপারটা এমন নয়। অনেকে নিজে ভাল কিন্তু পায় খারাপ। আবার অনেকে নিজে খারাপ অথচ পায় ভাল। লুত (আঃ) ছিলেন একজন নবী। অথচ ওনার স্ত্রী ভাল ছিলনা। যদিও পরে বিচ্ছেদ হয়। আবার ফেরাউন ছিল খারাপ অথচ তার স্ত্রী আছিয়া (আঃ) ছিল ভাল। (সূরা নূর : ২৬) উল্লেখিত আয়াতে বলা হয়েছে যে, দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য, এমনিভাবে তার বিপরীত। কেননা আল্লাহ তা’আলা মানব চরিত্রে স্বাভাবিকভাবে যোগসূত্র রেখেছেন। অতএব দুশ্চরিত্রা ব্যাভিচারিণী নারী ব্যাভিচারী পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকে, এমনিভাবে তার বিপরীত এবং সৎ চরিত্রা নারীরা সাধারণত সৎ চরিত্র পুরুষদের প্রতিই আকৃষ্ট হয়ে থাকে এমনিভাবে তার বিপরীত।
 
প্রত্যেকেই নিজ নিজ আগ্রহ অনুযায়ী জীবন-সঙ্গী খোঁজ করে নেয় এবং আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সে এমনই পায়।আল্লাহ মুমিনদের পরিক্ষা নেন। ভালোর সাথে খারাপ ফেলে তার ঈমান দেখেন।আল্লাহ মানুষ কে পরীক্ষা করার জন্য ব্যতিক্রম কিছু করেন। একেক জন কে একেক ভাবে পরীক্ষা করেন। আমাদের ঈমান নিয়ে আমরা নিজেরা কতোটা সন্তুষ্ট? তাই চেষ্টা/ইচ্ছা থাকা উচিত আর আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে যাতে দ্বীনদার কাউকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পাই, যাতে করে জান্নাতের পথে চলাটা সহজ হয়। আর আল্লাহর কাছে চাওয়ার পরেও না পেলে বুজবেন আল্লাহ এইভাবেই আপনার ঈমান কে পরীক্ষা করছেন। তখন ঈমান টিকিয়ে রাখা আপনার জন্য কঠিন হলেও আল্লাহর উপর ভরসা রেখে ঈমানের উপর অটুট থাকতে হবে। আর তকদির ,কপাল ও ভাগ্যের উপর ছেড়ে না দিয়ে নতুন তথ্যের সন্ধানে থাকুন। আগামী পর্ব পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন ভালোবাসায় থাকুন।

 
ড.আব্দুস সাত্তার
লেখক ও সাংবাদিক
ওয়াশিংটন ডি,সি
১০১০২০
সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।