বিশ্ব জুড়ে করোনা আতঙ্ক কবে মুক্তি পাব কেউ জানে না। পর্ব- ১০

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :৫ অক্টোবর ২০২০, ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 1422 বার
বিশ্ব জুড়ে করোনা আতঙ্ক কবে মুক্তি পাব কেউ জানে না। পর্ব- ১০

ড. আব্দুস সাত্তার, ওয়াশিংটন ডি,সি: -বিশ্ব জুড়ে আতঙ্কের আর এক নাম করোনা। চীনের উহান শহরে ডিসেম্বর ২০১৯ সালে প্রথম যখন অজানা এই ভাইরাস শুরু হয়, তখন মানুষ ভুলেও চিন্তা করেনি যে সেই ভাইরাসটি ৯ মাসের মধ্যে পুরো দুনিয়াটাকে ওলট পালট করে দেবে। এমনকি ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার খবর মিডিয়াতে প্রচার হওয়ার পরেও বিশ্বের অধিকাংশ দেশের কর্তৃপক্ষই সংক্রমণটিকে ততটা গুরুত্ব দেয়নি। পরবর্তীতে যখন লাফিয়ে লাফিয়ে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা দুটোই বাড়তে থাকে, তখন পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি দেশ বিভিন্ন রকম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে থাকে। কিন্তু বিশ্বের প্রতিটি দেশ রোগী ও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে আনলেও বিশ্বের শক্তিশালী ও উন্নত দেশ হয়েও আমেরিকা রোগী ও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। এবং পারবে কিনা সন্দেহ আছে। আজ পর্যন্ত আমেরিকায় সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৭.৩৮ মিলিয়ন এবং মৃত্যু ২০৯ হাজার। শুধু তাই নয় এখনো প্রতিদিন এক হাজারের বেশী মানুষ মারা যাচ্ছে। সারা দুনিয়ায় সংক্রামক ৩৪.৭ মিলিয়ন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১.০৩ মিলিয়ন।
একটি পরিবার যেমন একটি ভুল সিদান্তের জন্য তছনছ হয়ে যায় তেমনি একটি দেশের সরকার প্রধান যখন ক্ষমতা বা রাজনীর জন্য ভুল সিদান্ত নেন তখন সেই দেশটির জনগণের ভোগান্তির সীমা থাকে না। Fear:Trump in the White House Book by Bob Woodward থেকে জানা যায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জানতেন করোনা ভাইরাসটি কতটা বিপদজনক। তারপরও ট্রাপ মিথ্যা বলে ৯ মাস পার করেছেন। করোনা নিয়েও তিনি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মানতে নারাজ ছিলেন। তিনি মাস্ক পর্যন্ত ব্যবহার করেন না। নিজের মতো করে চলেন। করোনার ব্যাপারেও তিনি একা সিদ্ধান্ত নেন। টিভি বিতর্কে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, তিনি রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছেন এবং তিনি না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ লাখ মানুষ মারা যেত। অথচ পরিসংখ্যান বলছে, করোনার কারণে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে ও তাঁর স্ত্রী ম্যানিলা এবং হোয়াইট হাউজের স্টাপ সহ ৬ জন একসাথে একই মিটিং থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। গত নয়মাস ধরে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করা, দু’দিন আগে ডিবেট স্টেজেও বাইডেনকে তাঁর মাস্ক পড়ার অভ্যাস নিয়ে উপহাস করা ট্রাম্প এবং তাঁর সহকর্মীরা সবাই এখন মাস্ক পড়ছেন। তাঁদের প্রোপাগান্ডা মেশিন ফক্স নিউজ এখন বলছে wear the damn mask! এদিকে আজ দুইদিন যাবত ট্র্যাপ Walter Reed National Military Medical Center নীবির চিকিৎসাধীন আছেন।

বিধাতা একজন আছেন বিশ্বাস করুন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কথামতো মাস্ক,সোশ্যাল ডিস্টেন্স এবং মিছিল, মিটিং ও গেদারিং এড়িয়ে চলুন। ট্র্যাম্পের মতো আমাদের আশেপাশে ও অনেকেই দেখছি কিছুই মানছেন না। প্লিজ আপনাদেরকে বলছি এখনো সময় আছে পরিবর্তন হয়ে যান! আপনিও সুস্থ ভাবে বাঁচুন এবং অন্যদেরকেও সুস্থ ভাবে বাঁচতে দিন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে করোনাভাইরাসের মেডিসিন এখনো আবিষ্কার হয়নি, যা হয়েছে তা এখনো ট্রায়াল পর্যায়ে আছে। কবে নাগাদ মেডিসিন আসবে বলা মুশকিল। যদিও আসে সাধারণ আমজনতার পেতে হয়ত ২১ সালের মাঝামাঝি হতে পারে। তাই আসুন সেই পর্যন্ত সবাই গরম পানি খাই, গার্গল করি এবং বারবার হাত সাবান দিয়ে ধোয়ার অভ্যাস করি। একইসঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার অর্থাৎ পুষ্টিকর খাবার খাই, প্রচুর পানি পান করি, নিয়মিত ব্যায়াম করি, বাহিরে বের হলে মাস্ক বা ব্যানডানা এবং সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখি।

ড.আব্দুস সাত্তার

ওয়াশিংটন ডি,সি

লেখক ও সাংবাদিক

১০/০৪/২০

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।