শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর বাহারি পণ্য, ক্লিক করে কেনা

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১২ অক্টোবর ২০২০, ১:৪৭ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 49 বার
শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর বাহারি পণ্য, ক্লিক করে কেনা

ডিজিটাল বাংলাদেশ। প্রায় সব কিছুই এখন অনলাইনে। আর কেনাকাটা, সে তো বেশ আগে থেকেই জমজমাট। আর এখন এই কোভিডের কালে এসে অনলাইনের ওপর নির্ভরতা বেড়ে কয়েকগুণ হয়েছে। অঘোষিত লকডাউনের সময় ক্রেতারা অনলাইনেই অর্ডার করেছেন বেশি। এখনও তা অব্যাহত। তবে উৎসব আয়োজন মানে বাড়তি কিছু। সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। থাকে বিশেষ ছাড় ও অন্যান্য সুবিধা। তাই অনলাইন শপের ক্রেতারা আলাদা করে উৎসবের খোঁজ নেন। তাদের জন্য বলা, এখন চলছে বেশ বড়সড় একটি উৎসব। শুক্রবার ১০-১০ দেশীয় অনলাইন শপিং উৎসব শিরোনামে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এখন বেশ জমজমাট।

দশ দিনব্যাপী উৎসবে মোট ১৪টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রিয়শপ, রকমারি, আজকের ডিল, চালডাল, পিকাবু, দ্য মল, খাসফুড, অথবা, বাংলা শপারর্স, স্টাইলাইন, এক্সট্রা, ডায়াবেটস স্টোর, লাইফেস্তা ও বিডিশপ। একটি লিঙ্কে (http://tenten.com.bd) ক্লিক করেই সব শপ ঘুরে দেখা যায়। একেকটি শপ একে ধরনের পণ্যের জন্য পরিচিত। যার যা চাই সে অনুযায়ী ক্লিক করছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্য, গ্রোসারী, জুয়েলারি, পোশাক, শিশু খাদ্য, কসমেটিক্স, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ওষুধ, বই সবই পাওয়া যাচ্ছে। ঘরে বসে ক্লিক করলেই হলো।

রকমারির ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা গেল অসংখ্য বইয়ের সংগ্রহ। দেশের প্রায় সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বই এখানে পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বই দোকানে খুঁজে পাওয়া যায় না। এখানে পাওয়া যাচ্ছে ঠিকই। উদাহরণ হতে পারে ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’ সিরিজ গ্রন্থের বইগুলো সব লাইব্রেরিতে পাওয়া যায় না। উৎসবে অংশ নেয়া অনলাইন শপে ঢুকে পাওয়া গেল এ যাবত প্রকাশিত সব খন্ড।

অনলাইন শপিংয়ে নারীরা বেশ এগিয়ে। এক্সক্লুসিভ জুয়েলারি, জামা শাড়ি থেকে শুরু করে প্রসাধনীনহ নানা কিছু আপন মনে খুঁজে বেড়ান তারা। লেইসফিতা নামের অনলাইন শপে ক্লিক করে পাওয়া গেল মেয়েদের পছন্দের গহনা। ডায়মন্ড রিং।

ছেলেদের বেশি আগ্রহ ইলেকট্রনিক গেজেটে। দেশী-বিদেশী এসব গেজেট একাধিক শপে পাওয়া যাচ্ছে। বিডি শপের ওয়েবসাইট ঘুরে পাওয়া গেল মোবাইল ফোন স্পীকার ট্রাইপডের মতো বেশ কিছু পণ্য।

এক্সট্রা নামের অনলাইন শপে ঢুকে পাওয়া গেল মজার অফার। এখান থেকে প্রিয়জনদের গিফট এবং রিওয়ার্ড দেয়া যাবে। যাকে গিফট কার্ড দেয়া হবে তিনি নির্দিষ্ট দোকানে গিয়ে নিজের পছন্দমতো গিফট বেছে নিতে পারবেন। উপহার দাতাকে আগে থেকে না জানিয়ে অবাক করে দেয়ারও সুযোগ রেখেছে শপটি।

আর আজকের ডিল, চালডাল, প্রিয় শপ বা দি মলের মতো শপগুলোকে সুপার শপ বলা চলে। উৎসবের লিঙ্কে ক্লিক করে সব ঘুরে আসা যাচ্ছে।

হ্যাঁ, উপরে উল্লেখ করা অনলাইন শপগুলো থেকে সারা বছরই কেনার সুযোগ আছে। তবে উৎসবে পাওয়া যাচ্ছে বিশেষ ছাড় ও বাড়তি সুবিধা। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিনই লাইভ ভিডিও প্রোগ্রাম করে বিভিন্ন উপহার ও অফার সম্পর্কে জানাচ্ছে। ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে ঢুকে জানা যাচ্ছে আরও নানা খুঁটিনাটি।

আয়োজকরা জানাচ্ছেন, উৎসব উপলক্ষে সারাদেশে দেয়া হবে ফ্রি ডেলিভারি। ক্রেতাকে এজন্য কোন খরচ করতে হবে না। আর বিকাশের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করলে পাওয়া যাচ্ছে ১০ শতাংশ ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক। এছাড়াও রয়েছে ৫০ শতাংশের বেশি ডিসকাউন্ট ভাউচার, একটি কিনলে একটি ফ্রি, ফ্ল্যাশ সেলস এবং আকর্ষণীয় নানা অফার।

উৎসবের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রচলিত ধারায় ব্যবসা-বাণিজ্যের দিন শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে বিদ্যমান প্রচলিত পদ্ধতির ব্যবসা-বাণিজ্য ডিজিটাল ব্যবসা-বাণিজ্যে রূপান্তর হচ্ছে। পাশাপাশি তৃতীয় শিল্পবিপ্লব থেকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব যুগে প্রবেশের কারণে কায়িক শ্রমনির্ভর পেশা মেধাভিত্তিক পেশায় পরিবর্তিত হচ্ছে।

তবে অনলাইন শপগুলোর সততা ও কমিটমেন্ট সব সময় ঠিক থাকছে না বলেও অভিযোগ আছে। এ অভিযোগ সম্পর্কে মন্ত্রী সতর্ক করেন। বলেন, ডিজিটাল কমার্সের সফলতার জন্য দরকার আন্তরিকতা ও ব্যবসায়িক সততার মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করা। এজন্য গ্রাহকের সঙ্গে কোন ধরনের প্রতারণা যেন না হতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বিক্রেতাদের নির্দেশ দেন তিনি।

আয়োজকদের পক্ষে ই-ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহাব উদ্দীন এ ধরনের কোন প্রতারণাকে প্রশ্রয় না দেয়ার কথা জানিয়ে বলেন, আমরা সব সময় ক্রেতার স্বার্থ বিবেচনা করার চেষ্টা করি। এর পরও কিছু ত্রুটি হয়তো থেকে যায়। এ উৎসব ক্রেতাদের আস্থা বাড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ভার্চুয়াল এ উৎসব চলবে ২০ তারিখ পর্যন্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

আরও পড়ুন