সব জনমত জরিপে এগিয়ে বাইডেন

অথর
নিজস্ব প্রতিবেদক   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১৩ অক্টোবর ২০২০, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 28 বার
সব জনমত জরিপে এগিয়ে বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পরিচালিত সব জনমত জরিপে সুস্পষ্টভাবেই এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট। যা এখন পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটদের জন্য খুবই উদ্দীপ্ত করার মতো বিষয়। এদিকে পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী প্রচারাভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাইডেন আবারও নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন তা মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন। অন্যদিকে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি করোনামুক্ত এবং তার শরীরে এ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। মার্কিন নির্বাচনের আর মাত্র ২৩ দিন বাকি এর আগে হওয়া এক যৌথ জরিপে বাইডেন ট্রাম্পকে যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তা ডেমোক্র্যাটদের উদ্দীপ্ত করার মতোই একটি বিষয়। কেননা ১৯৩৬ সালের পর মার্কিন নির্বাচন সামনে রেখে জনমত জরিপের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে বাইডেনের মতো করে এমন চ্যালেঞ্জ আর কেউ জানাতে পারেননি। খবর সিএনএনের।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এবিসি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের যৌথভাবে পরিচালিত জরিপের ফলও গেছে জো বাইডেনের পক্ষে। গত রবিবার প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, এতে অংশ নেয়া সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ৫৫ শতাংশই বাইডেনকে সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৩ শতাংশ। এই সপ্তাহে এ নিয়ে তিনটি উচ্চ মানসম্পন্ন জরিপের ফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বাইডেন ট্রাম্প থেকে কমপক্ষে ১০ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তিনটি জরিপেই অংশগ্রহণকারীদের ৫০ শতাংশের বেশি লোক বাইডেনকে সমর্থন জানিয়েছেন। এ সম্পর্কিত অন্য দুটি জরিপের একটি সিএনএন/ এসএসআরএস ও অন্যটি ফক্স নিউজ পরিচালিত। এবিসি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের সর্বশেষ জরিপে ১২ শতাংশ ব্যবধানে পিছিয়ে ট্রাম্প। গড়ে প্রতিটি জরিপে বাইডেনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীদের ৫২-৫৩ শতাংশ। ট্রাম্প থেকে তিনি জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন ১০-১১ শতাংশ ব্যবধানে। নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে এমন চ্যালেঞ্জের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোন প্রেসিডেন্টকে পড়তে হয়নি।

সিএনএন জানায়, মার্কিন নির্বাচনের আগে জাতীয় পর্যায়ে জনমত জরিপ পরিচালনার বিষয়টি শুরু হয় ১৯৩৬ সাল থেকে। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যমান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও জনমত জরিপে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পেরেছিলেন মাত্র পাঁচজন। এদের মধ্যে মাত্র একজন বিদ্যমান প্রেসিডেন্ট থেকে ৫ শতাংশ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। ১৯৯২ সালে এই চ্যালেঞ্জটি জানিয়েছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। তবে ওই চ্যালেঞ্জারের কেউই ৪৮ শতাংশের বেশি জনসমর্থন নিজের দিকে টানতে পারেননি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসেই নির্বাচনের একেবারে কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ৫০ শতাংশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে বিদ্যমান প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ জানানো একমাত্র ব্যক্তি হলেন বাইডেন। এই একই কারণে গত নির্বাচনের প্রচার থেকে এবারেরটি আলাদা হয়ে গেছে। গত নির্বাচনে ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি ক্লিনটন জনমত জরিপে ৭ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু কোন জনমত জরিপেই তিনি ৫০ শতাংশের বেশি লোককে নিজের দিকে টানতে পারেননি। এ অবস্থায় ট্রাম্প সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা নিরপেক্ষ ভোটারদের নিজ দলে টেনে নিয়ে শেষ মুহূর্তে বিজয় নিশ্চিত করেন। কিন্তু এবার এরই মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের সমর্থন আদায়ের মধ্য দিয়ে হিলারির তুলনায় বাইডেন কিছুটা নিরাপদ অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন বলে ধরা যায়। এখন সব নিরপেক্ষ ভোটারদের নিজ দলে টানলেও ট্রাম্পের পক্ষে জাতীয় পর্যায়ে জয়ী হওয়াটা কঠিন।

জাতীয়ভাবে ৫-৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত হলে ইলেকটোরাল কলেজেও একজন প্রার্থীর হারার কথা। বাইডেন শুধু জাতীয়ভাবেই এগিয়ে নেই, তিনি সুইং স্টেট খ্যাত অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যেও এগিয়ে রয়েছেন। স্থানীয় সময় রবিবার প্রকাশিত সিবিএস নিউজ/ইউগভ পরিচালিত জরিপের ফল থেকে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঙ্গরাজ্যে বাইডেনের প্রতি জনসমর্থন ৫০ শতাংশের ওপরে। মিশিগান ও নেভাদায় তার জনসমর্থন ৫২ শতাংশ, যেখানে ট্রাম্পের জনসমর্থন ৪৬ শতাংশ। আইওয়ায় অবশ্য দুজনই বেশ শক্ত অবস্থানে। দুজনের প্রতিই জনসমর্থন ৪৯ শতাংশ। বাইডেনের প্রতি এ জনসমর্থনের কারণ করোনা মহামারী মোকাবেলায় ট্রাম্পের ব্যর্থতা। এছাড়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ট্রাম্পের চেয়ে বাইডেনকে বেশি বিশ্বাস করছে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বলে জনমত জরিপ শুরু হওয়ার পর যে তিনজন বিদ্যমান প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে ক্ষমতায় বসতে পেরেছিলেন, তাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ছিল এমন। জিমি কার্টার, রোনাল্ড রিগ্যান ও বিল ক্লিনটন তিনজনের ক্ষেত্রেই বিদ্যমান প্রেসিডেন্টের চেয়ে তাদের চ্যালেঞ্জারদেরই বেশি বিশ্বাস করেছিল মানুষ। এই তিনজনের কেউই ভোটারদের ৫০ শতাংশকে নিজেদের দিকে টানতে পারেননি। বাইডেন সে ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে।

ফের ফল মেনে নেয়ার ঘোষণা বাইডেনের ॥ বাইডেন সম্ভাব্য ভোটার উৎসাহমূলক এক বক্তব্যে বলেন, কেবল প্রতারণা ও ছলচাতুরি করেই তাকে হারানো যাবে। সেজন্য তিনি সবার ভোট দেয়া নিশ্চিত করার জন্যও আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন তিনি তা মেনে নেবেন। বাইডেন ট্রাম্পের বক্তব্যের রেফারেন্স দিয়ে বলেন, তিনি ভোটদানের প্রতি মানুষকে নিরুৎসাহিত করছেন। ডাকযোগে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে সন্দেহ-অবিশ্বাস তৈরি করেছেন এবং ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনে রিপাবলিকান ভোট পর্যবেক্ষকদের উৎসাহ দিচ্ছেন। এছাড়া নির্বাচনের ফল মেনে নেবেন কিনা, এমন প্রশ্নে নিশ্চয়তা না দিয়ে বরং তার উত্তর বারবার এড়িয়ে গেছেন ট্রাম্প। পেনসিলভানিয়া ছেড়ে যাওয়ার আগে বাইডেন সাংবাদিকদের বলেন, তার মন্তব্যের ভিন্ন অর্থ করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমি এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেব।

ধনী মার্কিনীদের মধ্যে চিন্তার রেখা ॥ বাইডেনের বিজয়ের লক্ষণ স্পষ্ট দেখা যাওয়ায় ধনীদের মধ্যে চিন্তার রেখা ফুটে উঠছে। বছর শেষ হওয়ার আগেই তারা নিজেদের ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন দ্রুততার সঙ্গে। কারণ বাইডেন জয়ী হলে ট্যাক্স বাড়াতে পারেন বলে ফাইন্যান্সিয়াল এ্যাডভাইজাররা সতর্ক করে দিচ্ছেন। ধনীদের বেশি উদ্বেগের কারণ হচ্ছে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ‘নীল ঢেউ’ এর জোয়ার আসতে পারে। এতে করে কর সংস্কারের প্রস্তাব ও সেটি পাস করার ক্ষমতা আসতে পারে বাইডেনের হাতে। ধনীরা মূলত নার্ভাস যে বিষয়টি নিয়ে সেটি হলো বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ ডলারের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কর তথা সম্পত্তি ও উপহার ট্যাক্স ফ্রি। ২০২৫ সালে এই নিয়ম বাতিল হওয়ার আগেই এতে কাটছাঁট আসতে পারে। ডেমোক্র্যাট দলের এই কর ছাড়ের বিষয়টিকে ৫৫ লাখ ডলারের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক সমঝোতা থেকে সরিয়ে নিলেও ইরানের সঙ্গে ভাল একটি চুক্তি চান বাইডেন। পাঁচ বিশ্বশক্তি ও জার্মানিসহ মোট ছয় জাতির সঙ্গে ইরানের করা পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তির থেকেও ভাল একটি চুক্তি ইরানের সঙ্গে করার পক্ষে তিনি।

আমার শরীরে ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে ॥ ট্রাম্প দাবি করেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তার দেহে ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি আরও দাবি করেন, তার দেহে আর কোভিড-১৯ সংক্রমণ নেই। যদিও ট্রাম্প করোনা নেগেটিভ হয়েছেন; এমন কোন তথ্য তিনি দেননি। স্থানীয় সময় রবিবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প বলেন, তার দেহে করোনা আর নেই এবং তার ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি খুব ভাল অবস্থানে রয়েছেন। ট্রাম্প নিজেও স্পষ্ট করেননি তিনি এখনও করোনামুক্ত হয়েছেন কিনা।

সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।